হারানো রুবি
"ম্যাডাম। দুটো ছবি নেব, প্লিস ।"
একজন মহিলা অল্পবয়েসি , বিজনেস স্যুট পরা , বাকি দুজন বাঙালি শাড়ি । তিনজনের হাতেই ককটেল গ্লাস। ফটোগ্রাফার তিন চারটে শট নিল ।
"ধন্যবাদ ম্যাডাম। আমাদের ফিচার রাইটারকে আপনাদের সঙ্গে দেখা করিয়ে দেব। আপনাদের গল্পটা অসাধারণ। "
গল্পটা অবশ্য শুরু হয়েছিলো বেশ কিছুদিন আগে ....
--------------------------------------------------
আষাঢ়ের বড় বেলা বলে আজ দিনে দিনে ডাক্তার সুশান্ত মন্ডল হাসপাতাল থেকে বেরোতে পেরেছে। আজকে একেই একটু কাজের চাপ, মানে রুগীর ভিড়, ছিল আর তার ওপরে আজ একটু গন্ডগোল হয়ে গেছিল। শনিবার ডাক্তার সাধারণত দুপুর দুটোয় বেরিয়ে ক্লাবে লাঞ্চ করে। অনেক চেষ্টা করেও ক্যালকাটা ক্লাবে বা বেঙ্গল ক্লাবে মেম্বারশিপ হয়নি, তাই বাইপাসের ধারে একটা নতুন ক্লাবেই যেতে হয়। তবে সেটা একদিকদিয়ে ভালোই। বাইপাসের ওপরেই হাসপাতাল, তাই শহরের দিকে আর ভিড় ঠেলে যেতে হয়না। এই কথা ভেবেই ডাক্তার নিজের কাছে নিজের মান রেখেছে। আজ এত দেরি হয়ে গেল যে আর ক্লাবে লাঞ্চ খাওয়া হল না। ড্রাইভার গোপালকে বললো, "বারুইপুর চল ।"
সাধারণত শনিবার রাতে কলকাতার বাড়িতে না থেকে ডাক্তার বারুইপুরের বাগানবাড়িতেই কাটায়। ডাক্তারের বৌ, চন্দ্রা -- মানে চন্দ্রাবলী -- বিয়ের প্রথম প্রথম ওর সঙ্গে দু একবার সেখানে গেলেও বহুদিন হল যাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। আসলে বৌয়ের সঙ্গে ডাক্তারের রিলেশানশিপটা একটু ঘোলাটে । চন্দ্রা ডাক্তারের দ্বিতীয় বৌ, কিন্তু তাও সে ডাক্তারের গলার মণিহার হয়ে উঠতে পারেনি। ডাক্তার আর তার এই বৌয়ের ভেতর একটা সামাজিক ফারাক আছে।
ডাক্তার মন্ডল খুবই সামান্য ঘর থেকে কিছুটা বুদ্ধি আর অনেকটা রিজার্ভেশানের চক্করে ডাক্তারি পাশ করেছিল কিন্তু তার নামডাক হয়েছিল, গ্রামে একটা দু নম্বরি ক্লিনিক চালানোর জন্যে, রুগী চিকিতসার জন্যে নয়। সেখানে নাকি গর্ভবতী মহিলাদের পেটের ভ্রুণের লিঙ্গ নির্ধারণ, গর্ভপাত, অযাচিত বাচ্চা বিক্রি তো হতোই আর কানাঘুষো শোনা যায় যে অর্গান পাচার আর ট্রান্সপ্লান্টও হত । ডাক্তারের প্রথম পক্ষের বৌ এইরকম কোনো একটা ব্যাপারে খুবই অল্প বয়েসে মারা যায়। সে নিয়ে নাকি পুলিশ কেসও হয়েছিল কিন্তু তারপর সব ধামা চাপা পড়ে যায়।
চন্দ্রা পুরোনো কোলকাতার বনেদি দত্ত পরিবারের মেয়ে। পূর্বপুরুষেরা এককালে স্টিভেডরি ব্যবসা করে বিরাট সম্পত্তি রেখে গেছিল। চন্দ্রার বাবা, নিখিল সাধন দে, সেই সব নিয়েই ঠাঁট বাঁট চালায়, ক্যালকাটা ক্লাবে ছড়ি ঘোরায়। কোনো একটা ঝামেলাতে জড়িয়ে পড়ে নিখিল বাবুকে ডাক্তার মন্ডলের সাহায্য নিতে হয়েছিল এবং সেই সূত্রেই ডাক্তারের সঙ্গে তার মেয়ের আলাপ হয়। চন্দ্রা ইংলিশ অনার্স নিয়ে বি.এ পাশ করেছিল, বাবার ইচ্ছে ছিল এম.বি. এ করুক। সেটা আর হয়নি কারণ চন্দ্রা ডাকসাইটে সুন্দরী, দুএকটা সাইড রোল করার সুবাদে কোলকাতার সিরিয়ালের জগতে আসাযাওয়া আছে। প্রডিউসার ডাইরেক্টরদের সঙ্গে পার্টিতে আর কাগজের পেইজ থ্রিতে দেখা যায়। ডাক্তারের গানের গলা ছিল, কিবোর্ড ভালোই বাজাতে পারতো। তারই ভিত্তিতে চন্দ্রা আর ডাক্তার দু তিনটে মিউসিক ভিডি করে ইউটিউবে রিলিস করে আর তারপরেই মাখো মাখো ভাব। কি করে যে চন্দ্রার মত এই পাকা আমটাকে ডাক্তারের মত দাঁড়কাকটা খেয়েছিল সেটা নিয়ে অনেকেই ভেবেছিল ওদের বিয়ের সময়ে। ডাক্তার অবশ্য শ্বশুরের ঘাড়ে চেপে সমাজে ওঠার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু খুব একটা সুবিধে হয়নি। কানাঘুষো শোনা যায় যে ডাক্তার আর বৌ বেশ কিছুদিন এখন আর এক ঘরে শুচ্ছে না, যদিও তারা এখনো চন্দ্রার বাবার দেওয়া বালিগঞ্জের ফ্ল্যাটেই থাকে। অবশ্য শনিবার আর রবিবার ছাড়া।
ট্রাফিক জ্যাম ঠেলে বারুইপুর পৌঁছতে প্রায় সাড়ে সাতটা বেজে যাবে। যাই হোক, আজকের অপারেশনটা ভালোই নেবে গেছে। না না, কোন মেডিকেল অপারেশন নয়। ডাক্তারের কাছে মেডিকেল প্র্যাকটিসটা এখন তো গৌণ ব্যাপার। সুশান্ত তো আর ম্যাদা মারা নাড়ি টেপা ডাক্তার নয়! সে তো অনেক বড় বড় ব্যাপারে মত্ত । ড: মন্ডল হচ্ছে ম্যান অফ কানেকশন্স! যোগাযোগ করিয়ে দেবার মানুষ আর প্রত্যেক যোগাযোগেতেই ওর একটা কাট থাকে! পকেট থেকে স্মার্টফোনটা বের করে একবার বিটকয়েন ওয়ালেট টা দেখে নিল । না এখনো তার এবারের কাট টা ক্রেডিট হয়নি।
অবশ্য আজ দেরি হবার কারন আছে। হঠাৎ দুপুর বেলা ফায়ার অ্যালার্মটা বেজে উঠেছিলো আর হাসপাতালে ফায়ার অ্যালার্ম মানেই তো কোড রেড । ঢাকুরিয়ার সেই হাসপাতালে আগুন লেগে বহু রুগী মারা যাওয়ার পর এখন সব বেসরকারি হাসপাতালে এ ব্যাপারে খুব তৎপরতা । চারিদিকে একেবারে হুটোপুটি পড়ে গেল আর ডাক্তারকেও নিজের চেম্বার ছেড়ে সিঁড়ি দিয়ে রাস্তায় যেতে হল। যতক্ষণে বোঝা গেল যে অ্যালার্মটা ভুল, ততক্ষনে আবার একটা পাওয়ার ট্রিপ হয়ে লিফট বন্ধ হয়ে গেছে । তাইতে আরো দেরি হয়ে গেল। যাই হোক, সব শেষ করে যখন চেম্বারে পৌঁছলো তখন প্রায় বিকেল চারটে বাজে, পাক্কা দু ঘন্টা বেকার। বেশির ভাগ রুগিরাও অপেক্ষা করছিল তাই আজ ক্লাবে লাঞ্চ ভোগে। কোনো রকমে ক্যান্টিনের চিকেন স্যান্ডউইচ খেয়ে সব শেষ করতে অনেক দেরি হল, কিন্তু আসল কাজটা হতে হতে প্রায় সন্ধ্যা। যাই হোক, এই সব ভাবতে ভাবতে আর ইনস্টাগ্রামে কচি কচি মেয়েদের ভিডিও দেখতে দেখতে ডাক্তার যখন প্রায় বারুইপুরের বাগান বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছে এসেছে তখন ফোনটা হঠাৎ বেজে উঠলো।
"হ্যাঁ গার্গী, বলো।"
"স্যার আপনি কি পৌঁছে গেছেন?"
"কেন বলো তো?"
"না মানে আজ তো বেরোতে অনেক দেরি হল, তাই। "
গার্গী হাসপাতালের নার্স, সুশান্তর চেম্বারে এটাচ্ড । রুগী দেখার সময় সাহায্য করে, কম্পিউটারে প্রেসক্রিপশন টাইপ করে, ল্যাব রিপোর্ট, এক্স-রে প্লেট এগিয়ে দেয়, মেয়ে রুগী হলে সামনে থাকে, ডাক্তারকে নানা রকম ভাবে মেডিক্যাল আর অন্যান্য ক্লেরিকাল কাজে সাহায্য করে । নার্স কাম পিএ । বারো ক্লাসের পর নার্সিং ডিপ্লোমা করে বছর দুয়েক হল কাজ করছে। খুবই কাজের আর চটপটে। দেখতে শুনতেও বেশ চটকদার। ডাক্তার তো স্মার্ট মেয়ে দেখলেই গড়িয়ে পরে, তাই প্রথম থেকেই একে বেশ পছন্দ হয়েছিল। বছর খানেক আগে একবার গার্গীকে বারুইপুরের বাগানবাড়িতে নিয়েও গিয়েছিল .. কিন্তু সে যাই হোক, সে যাত্রায় ডাক্তার কিছুটা বোকা বনে গেছিল, তারপর আর চেষ্টাও করেনি।
"এই তো এসে গেছি, আর মিনিট পাঁচেক।"
"না মানে আমি আজ রাতে একটু রানাঘাট যাব," গার্গী রানাঘাটের মেয়ে, বাবা স্কুলের মাস্টার ছিলেন, গার্গীর ছোট বয়েসেই মারা গেছিলেন । গার্গীর মা বাপের বাড়িতে থাকে, পোস্ট অফিস সেভিংস ব্যাংকের দালালি করে মেয়েকে নার্সিং অবধি ঠেলেছে । এখন অবশ্য হাসপাতালের চাকরি পেয়ে কিছুটা সুবিধে হয়েছে। "সোমবার স্যার একটু দেরি হতে পারে।"
"আমি দশটার মধ্যে ঢুকে যাব, তার আগেই এসে যেও ।" এটা অবশ্য বাজে কথা। পরিকল্পনা মত চললে রোববার ভোর রাত্রি অবধি ডাক্তার ব্যস্ত থাকবে। ফিরতে ফিরতে দুপুর দুটো।
"আচ্ছা স্যার, গোপাল কি আজ গাড়ি নিয়ে ফিরবে? তাহলে একটা সারভিসিং ডিউ ছিল, রবিবার বুক করে দিতাম।" গোপাল ডাক্তারের ড্রাইভার ।
"নাঃ ও গাড়ি নিয়ে ওর বাড়ি যাবে।" গোপাল বারুইপুরের দিকেরই লোক। তাকে ছাড়া ডাক্তারের উইকেন্ড প্ল্যান হয় না। সেই সবকিছু ব্যবস্থার ভারে ।
"ঠিক আছে স্যার, গুড নাইট।"
ডাক্তার উত্তরে গুড নাইট বলার কোন চেষ্টা করলো না। লাইনটা কেটে দিয়ে ফোনটা সুইচ অফ করে দিল। উইকেন্ডে ডাক্তার কারুর ফোন রিসিভ করে না। ডাক্তারের জন্য উইকেন্ড হল স্কচ, সেক্স আর সিম্ফনি । কিন্তু সবার অজান্তে এই উইকেন্ডে আর একটা এস যোগ হবে। স্লটার ! Slaughter!!
--------------------------------------------------
ড: সুশান্ত মন্ডলের খুনের খবরটা নিয়ে শহরে খুব একটা হৈচৈ না হলেও কাগজে বেরিয়েছিল। এবং কিছুদিন এই নিয়ে চর্চা হয়েছিল। ঘটনার দিন পনেরো পরে, একদিন সকালে, শিখা আর পারো -- পারোলিকা মুখার্জি -- বারুইপুর থানার ওসির সঙ্গে দেখা করতে গেল ।
এরা দুজনেই জেমিনি কনসাল্টিং কোম্পানিতে কাজ করে। আগে যাদের বলতো প্রাইভেট ডিটেকটিভ, এখন তারাই নানা রকম সিকিউরিটি বিষয়ে উপদেশ দিয়ে আর ব্যবস্থাপনা করে থাকে। ফিজিক্যাল, ফিন্যানশিয়াল আর ফরেনসিক ইনভেস্টিগেশন, জেমিনি কনসাল্টিং সবই করে থাকে । পারো ফরেনসিক একাউন্টেন্ট, টাকা পয়সার কারচুপি ধরার কথা কিন্তু সব ব্যাপারেই তার ডাক। চল্লিশ পেরিয়ে গেছে, শরীরে একটু মেদ জমেছে কিন্তু লম্বা চেহারা বলে বোঝা যায়না। শিখা মান্ডি বয়েসে ছোট। সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, কিন্তু কলেজে এন সি সি করে আর কারাটে মার্শাল আর্টস শিখে তার দুর্ধর্ষ বডি। সে পারোর সঙ্গে ফিল্ড ওয়ার্ক করে। ওদের 'ত্রুটি'তে, তৃতীয় আর একজন আছে, কল্যাণ রায়, ওরফে ক্রয়, যে তুখোড় কম্পিউটার হ্যাকার, কিন্তু তার বেজায় ল্যাদ, বাড়ি থেকেই কাজ করে। কোথাও বেরোতে চায় না।
"খবরের কাগজে যা পড়লাম তাতে তো মনে হচ্ছে যে ড: মন্ডল তো বেশ ঘোলাটে ব্যক্তি। খুনের রহস্য কি সেই সব ঘটনাতেই লুকিয়ে আছে?" কিছু প্রাথমিক হাই হেলো করার পর থানার ওসি, প্রহ্লাদ রায় কে পারো এই প্রশ্ন টা জিজ্ঞেস করলো।
প্রহ্লাদ বাবুর বিপুল চেহারা, খুবই ঘামেন। বড় বাবুর ঘরের এসি খারাপ হয়ে গেছে, তাই পাখাটা প্রবল বেগে চালিয়ে কাগজ পাত্র চাপা দিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।
"আমরাও প্রথমে তাই ভেবেছিলাম কিন্তু তা নয়। মন্ডলের যে সব পুরোনো কুকীর্তির কথা আমরা শুনেছি সেগুলো সব ঘটেছিল মালদা দিনাজপুরের দিকে। যে সব লোক সে সব ব্যাপারে জড়িয়ে ছিল তাদের আর কোনো খোঁজ নেই। হতেও পারে যে কোন একজন রয়ে গেছে কিন্তু চান্সটা খুবই কম।"
"সে ব্যাপারে আপনারা এতটাই কনফিডেন্ট?"
"দেখুন, তিরিশ বছর ক্রিমিনাল ঠেঙিয়ে আমাদের একটা সিক্সথ সেন্স হয়ে যায়। এটা কোনো নতুন ব্যাপার।"
"কি হতে পারে?"
"আমার তো মনে হয় একটা সেক্সুয়াল অ্যাঙ্গেল আছে। ওই যাকে বলে বি ডি এস এম । পার্ভার্শন। একটা ড্রাগের ব্যাপারও থাকতে পারে। ডাক্তাররা নানা রকম ড্রাগ নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে ।"
"আচ্ছা আপনারা কি ক্রাইমটা রিকন্সট্রাক্ট করতে পেরেছেন? ঠিক কি হয়েছিল সে রাত্রে সেটা কি বোঝা গেছে?"
"তবে শুনুন, ব্যাপারটা এইরকম ঘটেছিল। ড: মণ্ডল সারা উইক হাসপাতালে রুগী দেখে শনিবার রবিবার বারুইপুর-এর বাগান বাড়িতে এসে একটু ফুর্তি করেন।"
"একলাই আসেন? বাড়ির কেউ? মানে ওনার স্ত্রী তো আছেন।"
"আরে স্ত্রী নিয়ে কি এসব লোকের ফুর্তি হয়? না, উনি একাই আসেন আর এই রকমই এসেছিলেন সেই শনিবারে।"
"সিকোয়েন্স মানে, ঠিক কি ভাবে ঘটনাটা ঘটলো একটু বলবেন।"
"নিজের কাজ করবো? নাকি আপনাদের বোঝাবো?" পারোর অভ্যেস আছে নিচু মহলের পুলিশ অফিসারদের চোখের বিষ হওয়ার। কিন্তু উঁচু মহলের আহবানে তারা এসেছে! "যাই হোক, তবে শুনুন ...
গোপাল, সুশান্তকে বাড়িতে নামিয়ে দেয় আন্দাজ সাড়ে সাতটার সময়। অনেকখানি জমি নিয়ে, উঁচু পাঁচিলে ঘেরা সুশান্তর বাগান বাড়ি বা প্রমোদ মহল। প্রমোদ মহলের পরিচারিকা বা হোস্টেস হলো একাদশী। একাদশী গোপালের বোন -- মানে ওই পাড়াতুতো বোন -- আর গোপালই একাদশীকে ডাক্তারের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। একাদশী গ্রামের মেয়ে হলেও বেশ চৌকোশ আর ডাঁটো সাঁটো । সেই রাতের খাবার, পানীও সবই রেডি করে রাখে আর ডাক্তারের যখন মুড্ হয় বা বাই ওঠে, ওর সঙ্গে খাটে উঠে পড়ে । সেদিনও এই নিয়মেই সন্ধ্যা আর রাত গড়িয়েছিল যদিও বেশ কিছু যন্ত্রপাতি আর বসন-ভূষণ দেখে পরে বোঝা গিয়েছিল যে বেশ কিছুটা অস্বাভাবিক রতিক্রিয়া সে রাতে হয়েছিল। পরের দিন সকালে সুশান্তর উঠতে বেশ দেরি দেখে, একাদশী বাড়ি থেকে বেরিয়ে বাজারে যায় । বাগান বাড়ি থেকে বাজার বেশ দূরে, টোটো রবিবার চলে না, তাই ভ্যান গাড়ি করে বাজার থেকে ঘুরে আসতে প্রায় এগারোটা সাড়ে এগারোটা বেজে যায়। এসে দেখে এই কান্ড!
"ডাক্তার খুন হয়ে গেছে?"
"শুধুই কি খুন? একেবারে বিশ্রী ভাবে খুন। যেন রাগের বসে কেউ খুন করেছে। বাড়ি একেবারে লন্ডভন্ড। মনে হচ্ছে ওরা কিছু একটা খুঁজছিল।"
"হ্যাঁ, সেটা তো বেশ পরিষ্কার। সেদিন রাতে তো ডাক্তারের হাসপাতালের ঘরেও হানা দিয়েছিল। সেখানেও খুব খোঁজাখুঁজি হয়েছে। কিন্তু কি?"
"নো আইডিয়া।"
"এখানে কতজন এসেছিল? কি ভাবে এসেছিল?"
"একটু এগিয়ে একটা চায়ের দোকান আছে। সেই চাওয়ালা বলেছে যে একটা বড় কালো রঙের টয়োটা ইনোভা ঝড়ের গতিতে এসেছিল আর ঘন্টা খানেক পরে আবার চলে গেছে। গুলির আওয়াজও শুনেছিল, যদিও তখন ওরা ঠিক বুঝতে পারেনি যে এখানে এতবড় একটা একশান হয়ে গেছে।"
"আচ্ছা এই গোপাল আর একাদশীর ব্যাপারটা ঠিক কি? ওরা কি এর মধ্যে আছে?"
"খোঁজ নিয়েছি, সেরকম কিছু মনে হয়না। সোজা দেহ পসারিনী। পয়সা নেয়, আনন্দ দেয় । তাতে যদি কিছু কষ্ট পেতে হয়, মানে সিগারেটের ছ্যাঁকা, চাবুকের মার, হাত পা বেঁধে অন্যাচারাল সেক্স, ঠিক আছে, টাকা বেশি লাগবে। পেটে খেলে পিঠে সয় । টোটাল প্রফেশনাল! আর গোপাল তার থেকে কাট মানি নেয়, পিম্প করার জন্য।"
"আপনারা নিশ্চই ক্রাইম সিন ভালো করে সার্চ করেছেন! কিছু পেয়েছেন? আঙুলের ছাপ?"
"খুবই প্রফেশনাল কাজ। নিশ্চয় গ্লাভস মাস্ক পরে ছিল । ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেই, কোনো ডি.এন.এ মানে গায়ের লোম, মাথার চুল কিছুই নেই। ব্লাড সিমেন যা পাওয়া গেছে সে সব ডাক্তারের, আর খুঁজলে হয়তো একাদশীরও পাওয়া যেত ।"
"মানে কোনো রকম কিছুই পাওয়া যায়নি।"
"না। একটা জিনিস পাওয়া গেছে। আসুন মাল ঘরে দেখাচ্ছি।"
ও সি র ঘরের পেছনে আর একটা ঘর। সেখানে একটা গোদরেজ আলমারি খুলে, অফিসার একটা প্লাস্টিকের ফোল্ডার বের করলো। ফোল্ডারের ওপরে কেস নম্বর লেখা, ভেতরে একটা বড় লাল পাথর।
"বাবা! এটা কি চুনী ?"
"না। নকল মানে ওই আর কি ইমিটেশন। অনলাইনে পঞ্চাশ একশো টাকায় পাওয়া যায়।"
"কোথায় ছিল? কি ভাবে পেলেন?"
"ঘরের কোনে সোফার তলায়। মনে হয় ছিটকে পড়ে তলায় ঢুকে গেছিল।"
"শুধুই একটা ?"
"হয়তো আরো ছিল। বোধহয় কুড়িয়ে নিয়ে গেছে। এই একটাই রয়ে গেছিল।"
--------------------------------------------------
"খুবই পাকা কাজ, বুঝলি।" পারোর ফ্ল্যাটে শিখা আর ক্রয় কে নিয়ে তিন জনের মিটিং বসেছে। "কোনো মোটিভ পাচ্ছিনা, একটা ফেক কাঁচের রুবি ছাড়া কোনো ক্লু নেই। কোথা থেকে যে শুরু করি?"
"ডাক্তারের লাস্ট ফোন কল ছিল ওর ওই নার্স, গার্গীর সঙ্গে। ওর সেলফোনের কললিস্ট থেকে পেলাম।" আর কিছু না পেয়ে ক্রয় ডাক্তারের শেষ দু বছরের কল লিস্ট নিয়েই ঘাঁটাঘাঁটি করছে। "আরো দেখি যদি কিছু বার করতে পারি ।"
"চল শিখা আমরা ততক্ষণ গিয়ে একটু এই গার্গীর সঙ্গে আলাপ করে আসি।"
--------------------------------------------------
ডাক্তারের মার্ডারের পর থেকে ডাক্তারের চেম্বার বন্ধই থাকে। পুলিশের হুকুম, যাতে এভিডেন্স নষ্ট না হয়ে যায়। কিন্তু পারোর অনুমতি ছিল বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দরজা খুলে দিল। গার্গীর এখনো অন্য কোথাও ট্রান্সফার হয়নি বলে ওই পারো আর শিখা কে নিয়ে গেল ডাক্তারের চেম্বারে।
"আচ্ছা মিস মালাকার, আপনার সঙ্গেই তো ডাক্তারের শেষ ফোনে কথা হয়েছিল।"
"আমাকে আপনি বলবেন না ম্যাডাম, আমি আপনার থেকে অনেক ছোট।" গার্গীর হাসিটা বেশ মিষ্টি লাগলো। স্মার্ট আধুনিক মেয়ে। হাসপাতলের ইউনিফর্ম মানে নীল প্যান্ট আর শার্ট পরে রয়েছে। চুল বেশ ছোট ছোট করে কাটা । মুখে, কথা বার্তায় একটা বুদ্ধিদীপ্ত ছাপ । "শেষ কথা কিনা বলতে পারবো না, তবে হ্যা সেদিন সন্ধ্যা বেলা আমি ফোন করেছিলাম, কথা হয়েছিল। উনি তখন গাড়িতে। ঠিক পৌঁছনোর আগেই হবে।"
"কেন ফোন করেছিলে?"
"চন্দ্রাদি, মানে ম্যাডাম, স্যারের মিসেস, জানতে চেয়েছিলেন যে স্যার পৌঁছে কি না, আর ... "
"মিসেস মন্ডল নিজেই কেন ওনাকে ফোন করেননি?"
"না, মানে ওই আর কি," গার্গী একটু আমতা আমতা করছিল। "আসলে আমার বলা উচিত নয়, আসলে ওনাদের রিলেশানশিপটা খুব ঠিক নেই। সেরকম কথা বার্তা খুব একটা নেই।"
"কিন্তু তাও ওনার জানার দরকার ছিল উনি পৌঁছেছেন কি না?"
"তাই আমাকে বলেছিলেন চেক করতে।"
"আচ্ছা আর একটা কারণ বলছিলে, আমি তোমায় কেটে দিলাম।"
"আমার একটু জানার দরকার ছিল যে উনি রবিবার ফিরছেন কি না।"
"কেন?"
" আসলে আমার একটা জরুরি কাজ ছিল, উনি ফিরে এলে আবার যদি ডাকা ডাকি করেন। তাই শিওর হচ্ছিলাম।"
"কি কাজ?"
"আসলে আমি একটা ডিস্টেন্স লার্নিং এ গ্রাজুয়েশন করছি, তাদের একটা অনলাইন জুম ভিডিও কনফারেন্স ছিল। ডাউট ক্লিয়ারিং সেশন। মাঝে মাঝে হয়।"
"তুমি কি কোর্স করছো?"
"শূলিনী ইউনিভার্সিটির অনলাইন বায়ো-টেকনোলজি তে বি-টেক।"
"বাবা! এই ইউনিভার্সিটির তো নাম শুনিনি? এটা কোথায়?"
"হিমাচল প্রদেশে ম্যাডাম। এরাই একমাত্র অনলাইন-এ বায়ো-টেক ডিগ্রি দেয় ।"
"তা আর কিছু পেলে না?"
"ছোটবেলা থেকে সায়েন্স ইন্টারেস্ট ছিল। বাবা অংকের টিচার ছিলেন। টুয়েলভের পর সংসারের চাপে নার্সিং ডিপ্লোমা করলাম। বি-এ বি-এস-সি করে চাকরি হয়না। কিন্তু বুঝলাম যে নার্সিং করে ডাক্তারের খিদমত খাটার চেয়ে নিজে একটা ডিগ্রি করলে, বড় কিছু করা যাবে। আর জানেন তো বায়ো-টেক, জেনেটিক্স এইগুলোই ভবিষ্যৎ।"
"অসাধারন। তোমার মতো এরকম ক্লিয়ার চিন্তাধারা খুব কম লোকের হয়।"
"চেষ্টা করছি ম্যাডাম, আর দু বছর।"
"কিন্তু বায়ো-টেক তো ল্যাবরেটরি লাগে? তোমাদের অনলাইন ল্যাব কোথায়?"
"সেটা একটা খুব বড় প্রবলেম। ক্লাউড বেসড বায়ো-ল্যাব হয়। সেখানে অনলাইন সব করা যায়। কিন্তু বেশ এক্সপেন্সিভ।"
"কত খরচ?"
"প্রায় ২০০ - ৪০০ ডলার মাসে। রেজিস্টার করে ইউসার আইডি পাসওয়ার্ড পাওয়া যায়। ইউস ডলার -বেস্ড বিলিং।"
"সে তো অনেক টাকার ব্যাপার ? এত টাকা পাও কোথায়?"
"হয় না। চন্দ্রাদি মাঝে মাঝে কিছু দেন । কিন্তু বার বার চাইতে লজ্জা করে। তাই ল্যাবের বদলে কিছু থিসিস কোর্স নিয়েছি। কোনোরকমে থেকে দিয়ে চালাচ্ছি।"
"আচ্ছা রবিবার রাত্রে তো এই ঘরে কিছু লোক ঢুকেছিল, তাই না ?"
"হ্যাঁ । পুলিশকে জানানো হয়েছিল।"
"তা কি করে ঢুকলো? রাতে তো এই সব জায়গা লকড থাকে।"
"ওই বাথরুমের জানলা ভেঙে।" চেম্বারে একটা প্রাইভেট টয়লেট আছে। গার্গী সেই দিকে দেখালো।
"চল দেখে আসি।"
ছোট্ট টয়লেট। জানলাটার কাঁচ ভাঙা।
"ঐটা ভেঙেই ঢুকেছিল।"
জানলার বাইরে এ -সি আউটডোর ইউনিট রাখার জন্য একটা লম্বা কার্নিশ রয়েছে।
"এটা দিয়ে কতদূর যাওয়া যায়?"
"পারো-দি আমি নেমে দেখবো?" শিখা এসব ব্যাপারে সাহসী। এই জন্যই পারোর কাছে ও এতটা দরকারি।
"ঠিক আছে তুই নেমে দেখ এই কার্ণিশটা কতদূর গেছে? কিন্তু সাবধান। পড়ে একসিডেন্ট করিস না।"
"চিন্তা করো না । আমি মাউন্টেনিয়ারিং করি। এত সহজ ব্যাপার।" শিখা জানলা দিয়ে বেরিয়ে, দেওয়াল ধরে ধরে কার্নিশ দিয়ে এগিয়ে গেল। গার্গীকে নিয়ে পারো আবার ঘরটাকে ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলো।
"আচ্ছা ওটা একটা আমাজনের ডেলিভারি বাক্স দেখছি।"
"হ্যাঁ । স্যার তো প্রায়ই আমাজন থেকে অনলাইন অনেক কিছু কিনতেন।"
"আচ্ছা একবার ওনার মেশিনটা অন করা যাবে?"
"নিশ্চয়? আমি স্টার্ট আপ পাসওয়ার্ড জানি। আমিই তো বেশি অপারেট করতাম।"
গার্গী মেশিন অন করলো, ব্রাউজার খুলে আমাজন ইন্ডিয়া সাইটে যেতেই দেখা গেল, ডাক্তারের লগইন করা রয়েছে। লগআউট না করলে কুকি থেকে লগইন হয়ে থাকে। পারো চট করে ডাক্তারের অর্ডার হিস্ট্রি খুলে ফেললো ।
"এই দেখো! ডাক্তার তিন তিন খানা ফেক রুবি নেকলেস কিনেছে!"
"ওমা! এই রকমই তো শুনলাম যে ডাক্তারের বাড়িতে পাওয়া গেছে।"
"ঠিক তাই ! তুমি চট করে আমাকে এই অর্ডার-টার ডিটেলস প্রিন্ট করে দিতে পারবে?"
"নিশ্চয় ।" গার্গী প্রিন্টার চালু করে প্রিন্ট করার তোড়জোড় করতে লাগলো | সেই ফাঁকে, পারো একবার ডাক্তারের আমাজন একাউন্টের স্টেটাস দেখে নিল ।
"বাবা! আমাজন ওয়ালেটে তো প্রায় ৫০০০০ টাকা রয়েছে।"
"হ্যাঁ স্যার টাকা লোড করে রাখতেন যাতে বার বার ক্রেডিট কার্ড দিতে না হয়। দরকার হলে আমিও ওনার অর্ডার করে দিতাম, ওই ওয়ালেট থেকে।"
আমাজন একাউন্টের খুঁটি নাঁটি দেখতে দেখতেই শিখা করিডোরের দরজা দিয়ে ঢুকে এল।
"একি ! তুই এদিক দিয়ে?"
"আরে কার্নিশ দিয়ে সোজা গিয়ে ঘুরলেই ব্যালকনি পড়ে । সার্ভিসের জন্য রাস্তা করা আছে। ঐখান দিয়েই ঘুরে চলে এলাম।"
--------------------------------------------------
"ডাক্তার তাহলে নকল রুবি কিনেছিল। কিন্তু কেন?"
"আর কারাই বা সেই রুবি নিয়ে ওকে খুন করলো? তাও ঐরকম বিশ্রী ভাবে?"
"কিরে ফোনের কল ডিটেলস থেকে কারুর নাম পাওয়া গেল?" পারো ক্রয়কে জিজ্ঞেস করলো।
"অসংখ্য নাম।কিন্তু কোনটা যে ক্রিমিনাল সে তো আর বোঝা যায় না, তবে একটা প্যাটার্ন দেখা যাচ্ছে।"
"ওঃ তার মানে তুই প্রবলেম ক্র্যাক করে ফেলেছিস।"
"তাহলে শোনো পারো-দি," ক্রয় আঙ্গুল তুলে শিখাকে চুপ করিয়ে দিয়ে বললো। "এটা খুব জটিল যুক্তি, আমার ভুল ও হতে পারে।"
"বল বল শুনছি।"
"মনে করো একটা টাইম লাইন । আর এই লাইনের ওপর পর পর ডট। প্রত্যেকটা ডট একটা ফোন কল।"
"ইনকামিং না আউটগোয়িং?"
"সে যাই হোক। প্রত্যেকটা হল একটা কল যাতে ডাক্তার ছিল আর অন্যদিকে আর কেউ। ডাক্তারের নাম্বার একই কিন্তু অন্য নাম্বারটা আলাদা আলাদা। তাহলে প্রত্যেকটা ডট কে আমি সেই, অন্য ফোন নাম্বার দিয়ে চিহ্নিত করতে পারি।"
"ঠিক আছে। কিন্তু এত অনেক অনেক নাম্বার ।"
"দুটো দুটো করে নাম্বার নিয়ে জুটি বা পেয়ার তৈরী করো আর সেই পেয়ার যদি একই দিনে হয় তাহলে তাদের বল স্পেশাল পেয়ার । "
"এতেও তো অনেক পেয়ার হবে।"
"হবে না। এই স্পেশাল পেয়ার থেকে যেগুলো চেনা নাম্বার, যেমন হাসপাতালের নাম্বার, মিসেস মন্ডলের নাম্বার, গার্গীর নাম্বার বাদ দিয়ে দিলে, খুব কম পেয়ার বাকি থাকে ।"
"এতো সাংঘাতিক অ্যানালিসিস করেছিস। মানে এই দুই অচেনা নাম্বারের সঙ্গে ডাক্তার একই দিনে কথা বলে। এবং বার বার সেম দুজন ।"
"আর জানাশুনো নাম্বার বাদ দিলে এই রকম স্পেশাল পেয়ার একটাই আছে। আর মার্ডারের আগের শনিবার এই পেয়ার কল করেছিল।"
"এই একবারই ?"
"না আর এইখানেই রহস্যর চাবি কাঠি। শেষ দুবছরে এই পেয়ার দেখা গেছে প্রায় ১২ বার, দু মাস অন্তর । আর ঠিক প্রত্যেকবারই ওই শনিবারেই।"
"তো এদুটো কাদের নাম্বার?"
"একটা খুব সহজ। ইদ্রিস আলী। পার্ক সার্কাসে থাকে, একটা এন.জি.ও তে কাজ করে। ডাক্তার মন্ডলের রেগুলার পেশেন্ট। হাসপাতালে নাম আর ফোন নাম্বার রেজিস্টার করা আছে । সেখান থেকেই সব ডিটেল পেয়ে গেলাম।"
"আর অন্যটা?"
"সেটাতেই মুশকিল । মনিপুরে রেজিস্টার্ড নাম্বার। কুকি ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। সেখানকার সেক্রেটারির নাম্বার। কিন্তু সে ভদ্রলোক আর সেক্রেটারি নেই আর তার তার সঙ্গে হাসপাতালে আসার কোনো চিহ্ন নেই।"
"হুঁ । জল ঘোলা হচ্ছে।" পারো ভুরু কুঁচকে গেল। "মনিপুর খুব ঝামেলার জায়গা। কুকি আর মেইটি দের মধ্যে খুনোখুনি চলছে। রোহিঙ্গা আসে মিয়ানমার, মানে ব্রহ্মদেশ, থেকে ।"
"আর বার্মিস রুবি তো বিখ্যাত।"
"একদম ঠিক ধরেছিস। ফেক রুবি আর আসল রুবি। অঙ্ক কি মেলার দিকে।"
"কিন্তু অন্য লোকটা কে?"
"একজন যখন হাসপাতালের পেশেন্ট, তখন গার্গীকে একবার জিজ্ঞেস করলে হয় না?"
"ওকে আজই কফি খেতে ডাক একবার।"
"হ্যাঁ । মেয়েটা খুব স্মার্ট আর চটপটে।"
"তোমাদের মুখে ওর ক্লাউড বেসড বায়ো-ল্যাবের কথা শুনে তো অবাক হয়ে গেছিলাম। কলকাতার তাবড় তাবড় ডাক্তার এসব বুঝবেই না। ব্যবহার করা তো দূরের কথা।"
"কেন যে মরতে নার্স হলো?"
"ওর অবস্থ্যায় আর কি করতো? ভাল প্ল্যান করেছে। খুব ডায়নামিক।"
"লিংকড-ইন প্রোফাইল দেখছিলাম। নাদিয়া জেলা বিজ্ঞান মেলায় একটা সলিড-স্টেট ফায়ার অ্যালার্ম তৈরী করে ফার্স্ট প্রাইজ পেয়েছিল।"
--------------------------------------------------
ডাকার চেয়ে নিজেরাই চলে যাওয়া ভাল। তাই সন্ধ্যার আগেই পারো আর শিখা হাসপাতালের ঠিক উল্টোদিকে একটা কফি শপে গার্গীর সঙ্গে দেখা করলো।
"ইদ্রিস আলী বলে একজন ডাক্তারের পেশেন্ট আছে, তাকে চেনো?"
"এত পেশেন্ট আসে, ঠিক মনে পড়ছে না ম্যাডাম । দেখলে চিনতে পারবো হয়তো।"
"আচ্ছা এই একটা ফোন নাম্বার দিচ্ছি, এটাকে চিনতে পারবে?" পারো মনিপুরের নাম্বারটা দেখালো।
"কেন? এটা কার নাম্বার?"
"জানিনা, তবে এই নাম্বারটায় ডাক্তারের সঙ্গে কেউ কথা বলে।"
গার্গী কিছুক্ষন নাম্বারটা দেখল। কিছু ভাবলো। "আমি তো সব নাম্বার আমার ফোন কন্ট্যাক্টসে রাখি, দেখি।" প্রথম পাঁচটা নাম্বার টাইপ করতেই বেরিয়ে এল Apila Karang Maran Manipur Agent.
"এটা কে?"
"ও ইনি তো ইমফলের একটা ক্লিনিকের স্টাফ । ওখান থেকে ওরা আমাদের পেশেন্ট পাঠায় আর এই মিস আপিলা পেশেন্টকে এসকর্ট করে নিয়ে আসে। মানে ওই নার্স, হেলপার, এসিস্টেন্ট গোছের লোক। ইনিই সব পেপারওয়ার্ক করেন ।"
"ইনি কি রেগুলার আসেন?"
"হ্যাঁ । আলাদা আলাদা পেশেন্টের সঙ্গে এঁনাকেই পাঠায়। অপরিচিত জায়গায় পেশেন্ট, পেশেন্টের বাড়ির লোক একটু অসুবিধা হয়। তাই বোধয় উনি আসেন। আমাদের হাসপাতালের সঙ্গে ওনার বেশ পরিচিতি হয়ে গেছে।"
"উনি কবে কবে এসেছিলেন বলা যাবে?"
"সেটা সহজ নয়। কারণ ওনার নাম তো হাসপাতালের রেকর্ডে ঢোকে না।"
"মার্ডারের আগের দিন কি এসেছিলেন?"
গার্গী একটু ভেবে নিল পারোর মনে হল যেন গার্গীর মুখের ওপর দিয়ে একটা ছায়া চলে গেল। "হ্যাঁ মনে হচ্ছে তো সেদিন সকালে দেখেছিলাম।"
"অবশ্য তারপর তো শুনেছি একটা ফায়ার অ্যালার্ম হয়ে সব ওলোট পালট হয়েছিল।"
--------------------------------------------------
রাজারহাটে এন আই এ র অফিসে পারো, শিখা আর ক্রয়ের ডাক পড়েছে। দক্ষিণ কোলকাতা থেকে অতদূর যেতে প্রায় ঘন্টা খানেক লাগে কিন্তু কোলকাতা পুলিশের লাল বাতি গাড়িতে করে ওদের খুবই তাড়াতাড়ি পৌঁছে দিল। ঘরে পুলিশ আর এন আই এ র কয়েকজন পদস্থ আধিকারিক ওদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। প্রাথমিক পরিচয়ের পরই পুলিশের ডি জি পারো কে অভিনন্দন জানিয়ে বললেন। "ম্যাডাম, আপনাদের দেওয়া ওই দুটো নাম আর ফোন নাম্বার দিয়ে আমাদের পূর্ব ভারতের নিরাপত্তার একটা বিরাট সিকিউরিটি ব্রেকথ্রু হয়ে গেছে।"
"ডাক্তারের খুনিকে ধরা গেছে?"
"ওটা তো তুচ্ছ ব্যাপার। আসল গল্পটা এইরকম ....
উত্তর পূর্ব ভারতে ধর্মান্তর আর রাজনৈতিক অরাজকতা তৈরী করার জন্য প্রচুর বিদেশী টাকা আসে নানা রকম এন জি ও র ভেতর দিয়ে। আপনাদের এই ইদ্রিস আলী যে এন জি ও তে কাজ করে, এটা এইরকম একটা সংস্থা যারা মনিপুরের কুকি জঙ্গিদের সাহায্য করে । আমেরিকার গুড নিউস মিনিস্ট্রি বলে একটা ধর্মীয় সংস্থা এদের মাধ্যমে দিয়ে মনিপুরে বিপুল পরিমান টাকা পাঠায়। কিন্তু এই সব সংস্থার আধিকারিকের নিজেদের আবার দু নম্বরই ব্যবসা থাকে আর সেই ব্যবসার পরিপ্রেক্ষিতে এই মার্ডার হয়েছে। মিয়ানমারের বার্মিজ রুবি জগৎ বিখ্যাত কিন্ত ওখানে আর সোজা আমদানি রপ্তানির ব্যবসা করা যায় না। তাই রোহিঙ্গাদের মারফত এই সব রুবি আনা হয় আর এই রুবির বাজারে খুব দর। কোলকাতায় পেশেন্ট দেখানোর নাম করে এই মহিলা রোহিঙ্গাদের আনা বার্মিজ রুবি হাসপাতালে এনে ডাক্তারকে দিতো আর ডাক্তার সেই রুবি ইদ্রিস আলী কে দিয়ে দিত ওদের এন জি ও র আধিকারিকদের কাছে পৌঁছে দেবার জন্য। দু মাসে একবার এই মহিলা কুরিয়ার আসতো আর এই রুবি হস্তান্তর হোত । ব্যাপারটার হাসপাতালের ভেতরে, ডাক্তারের চেম্বারে হতো -- যেখান রোজ বহু রুগী আসে -- তাই কেউ সন্দেহ করতো না।
"কিন্তু আমাদের মিঃ কল্যাণ রায় তার নেটওয়ার্ক এনালাইসিস করে এই নাম্বার-জুটি ধরে ফেলেছেন।" এন আই এ র আধিকারিক পাশ থেকে বললেন। "আর এইটাই ওনার সাংঘাতিক কৃতিত্ব।"
"হুররে ফর ক্রয় । ক্রয় বাবু জিন্দাবাদ।" শিখা আনন্দে উৎফুল্ল।
"আর এবার বোধহয় ডাক্তার আসল রুবির পরিবর্তে অ্যামাজন থেকে কেনা জালি রুবি দিয়েছিল?"
"ঠিক তাই। চোরের ওপর বাটপাড়ি । অর্ধেক আসল অর্ধেক নকল দিয়ে ভেবেছিল যে নিজে কিছু প্রফিট করবে।"
"কিন্তু বোঝে নি যে এরা ক ভয়ানক ক্রিমিনাল। এরা কাউকে ছেড়ে দেয় না। বেইমানি করলে সুদে আসলে ফিরিয়ে নেয়।"
"এবং দরকার হলে খুন করতে এরা দুবার ভাবে না।"
"তাই হয়েছিল। সকলকে ধরে থার্ড ডিগ্রি উত্তম মাধ্যম দিয়ে সেটাই বেরিয়েছে কিন্তু তার থেকে বড় হলো এদের এই নেটওয়ার্ক, মানে এই টাকা পাঠানোর চ্যানেল একেবারেই ভেঙে দিয়েছি। গত তিন দিন কোলকাতা আর ইমফলে টানা রেড করে প্রচুর লোক গ্রেপ্তার হয়েছে আর তথ্য পাওয়া গেছে।" এন আই এ র কর্তা একেবারে গদগদ। "শুধু দুজন আমেরিকান নাগরিক, যারা এই গুড নিউস মিনিস্ট্রির হয়ে এখানে কাজ করতো তারা খুন হবার পরের দিনই দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।"
"ওরা চালাক, এ দেশের লোককে ফাঁসিয়ে নিজেরা বাঁচতে জানে।"
"আর আপনাদের জন্য আমাদের এই কোলকাতার বুকে একটা বড় ক্রাইম সল্ভ হলো।" কলকাতা পুলিশের কর্তাও ততোধিক খুশি ।
কিন্তু এত সুখবর আর সংবর্ধনার মধ্যে পারোর মনে একটা জিনিস এখনো খুঁত খুঁত করছে। কিন্তু সে আর এই উৎসব উত্তেজনায় কোন জাল ঢালতে চাইলো না।
--------------------------------------------------
তিন বছর কেটে গেছে। কোলকাতার ডালহৌসি স্কোয়ার এ, বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির ভেতর উইলিয়ামসন ম্যাগোর সভাগৃহে দ বেঙ্গল বায়োটেক কোম্পানির আজ শুভ উদ্বোধন হচ্ছে। কোলকাতার নাম করা শিল্পপতি নিখিল সাধন দে'র তত্বাবধনে এক প্রেস কনফারেন্সে নতুন কোম্পানির কথা সকলকে জানানো হচ্ছে। আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের বহুদিন পরে কোলকাতায় এই রকম একটা নব যুগের নতুন প্রযুক্তির কোম্পানি শুরু হচ্ছে। নিখিল বাবু কোম্পানির চেয়ারম্যান। তাঁর মেয়ে, চন্দ্রাবলী দে কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর। নিখিল দে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডিং এর কথা বলার পর তাঁর মেয়ে, চন্দ্রাবলীকে ডাকলেন কোম্পানির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলার জন্য। বেঙ্গল বায়োটেক জেনেটিক রিসার্চ করবে, নতুন নতুন জিন খুঁজে বার করবে নতুন নতুন চিকিৎস্যার পদ্ধতি বার করবে ইত্যাদি ইত্যাদি। উপস্থিত সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্ন আছে কিনা জিজ্ঞেস করতে এক বিদগ্ধ ভদ্রলোক উঠে দাঁড়ালেন।
"আচ্ছা ম্যাডাম, আমরা জানি যে জেনেটিক রিসার্চ করতে বহু মূল্যের ল্যাবরেটরি লাগে, বিরাট ক্যাপিটল লগ্নি করতে হয়ে, কিন্তু আপনাদের যা লগ্নির বিবৃতি নিখিল বাবু দিলেন, তাতে তো ঠিক হিসেবে মিলছে না।
"খুব ভালো ধরেছেন। আর এই ব্যাপারে আলোকপাত করতে আমি ডাকবো আমাদের প্রধান প্রযুক্তি আধিকারিক, গার্গী মালাকারকে।"
গার্গীর নিমন্ত্রনে পারো এই মিটিং-এ এসেছিল আর তার কথাটা শোনার জন্য নড়ে বসলো। গার্গীকে পারোর আগে থেকেই ভালো লাগতো কিন্তু আজ সে একেবারে সভাগৃহ আলো করে দিয়েছে । সাদা পোলো নেক টপের ওপর স্মার্ট, ডার্ক রঙের বিজনেস স্যুট । চুলটা একটু বড় করেছে আর স্লাইট নীলাভ রং । পারোর সঙ্গে বেশ কয়েকবার চোখাচোখি হয়েছে, বলছে যে মিটিং শেষ হলে সন্ধ্যাবেলা দ বেঙ্গল লাউঞ্জে ভাল করে কথা বলবে।
গার্গী স্টেজে উঠে খুব সহজ সরল বাংলায় বুঝিয়ে দিল যে আই-টি সেক্টরে যেমন ক্লাউড ভিত্তিক সার্ভার ব্যবহার করে সফ্টওয়ার কোম্পানিরা কাজ করে, ঠিক তেমনিই ক্লাউড ভিত্তিক বায়ো-ল্যাব ব্যবহার করে মাসিক তিরিশ চল্লিশ হাজার ডলার খরচা করে ওরা অত্যাধুনিক সার্ভিস কিনবে। ক্যাপিটাল লগ্নি করতে হবে না। পারোর মনে পড়ে গেল যখন ও দুশো পাঁচশো ডলারের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরতো। সেটাই এখন হাজারে পৌঁছে গেছে। আর তার সঙ্গেই মনে পড়ে গেল সেই পুরোনো মনের খুঁতখুঁতুনির কথা ।
মিটিং শেষ হবার ঘন্টাখানেক পরে , গার্গী এসে পারো-কে টেনে নিয়ে গেল চন্দ্রাবলীর কাছে। চন্দ্রাবলী তো একেবারে মক্ষীরাণী ! একে ফিল্ম দুনিয়ার গ্ল্যামার আর তার ওপর এখন কোলকাতার বিরল বিজনেস লেডি । স্তাবক আর সাংবাদিকরা ঘিরে রেখেছে, সকলের হাতেই মদিরার পাত্র। ককটেল ইভনিং। যাই হোক, গার্গী কায়দা করে দুজনকেই টেনে নিয়ে গেল লাউঞ্জের এক কোনে । তিন জনেরই সামান্য নেশা চড়েছে।
একজন প্রেস ফোটোগ্রাফার এসে ওদের তিনজনের ছবি তুললো। কিছু একটা বললো, কিন্তু তাতে পাত্তা না দিয়ে পারো সোজাসুজি চন্দ্রাবলী কে জিজ্ঞেস করলো । "আচ্ছা ম্যাডাম তোমার গলার এই বিরাট রুবি টা কি বার্মা থেকে আনা ?"
"হ্যাঁ , কিন্তু কেন বলুন তো?"
"মানে গার্গী কে জিজ্ঞেস করবো, এটা কি সেই রুবির একটা, যেটা আপনার লেট্ হাসব্যান্ড স্মাগলারদের কাছ থেকে ইন্টারসেপ্ট করেছিল?"
হলের উষ্ণ আবহাওয়ায় যেন একটা ঠান্ডা বাতাস বয়ে গেল।
"ম্যাডাম, এটা আপনি কি বলছেন?"
"মানে ড: মণ্ডলকে যে রুবি গুলো সরিয়ে রাখার জন্য নিজের প্রাণ দিতে হয়েছিল, সেগুলোর পরে আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। এটা কি সেগুলোরই একটা?"
"এ আপনি কি বলছেন?" গার্গী চট করে উত্তর দিল । "সেটা আমি, আমরা কি করে পাবো?"
"কারণ সে রুবি ড: মণ্ডল সরায় নি। তুমি তুমি জানতে যে ডাক্তারের ঘরে রুবি র হাত পরিবর্তন হয়। আর শেষ বার, তুমি ফায়ার অ্যালার্ম বাজিয়ে সবাইকে ঘর থেকে বার করে দিয়েছিলে। তারপর বারান্দা দিয়ে ঘুরে কার্নিশ টপকে চেম্বরে ঢুকে আসল রুবি সরিয়ে ফেক রুবি রেখে দিয়েছিলে ডাক্তারের টেবিলের ড্রয়ারে। সেইটা, ডাক্তার ইদ্রিস আলী কে দিয়ে ওদের হাতে খুন হয়ে গেল।" পারো ফিক করে হেসে দিল। "কি ঠিক বলেছি না?"
"আপনি তো ভাল গল্প লিখতে পারেন ম্যাডাম, দেশ পত্রিকায় ছেপে দেবে।" চন্দ্রাবলী চুপ কিন্তু গার্গী হেসে বললো।
"না গার্গী, তোমার প্ল্যান পারফেক্ট ছিল, শুধু অ্যামাজনের অর্ডারটা রবিবার এসে আমায় পুরো ব্যাপারটা পরিষ্কার করে দিল।"
"কোন অ্যামাজনের অর্ডারের কথা বলছেন?"
"ফেক রুবি নেক্লেসগুলো রবিবার এসেছিল। এমনিতে আসেনি, বলা হয়েছিল রবিবার ডেলিভারি করতে, যখন ডাক্তার হাসপাতলে থাকবেনা। ডাক্তার নিজে অর্ডার দিলে ও কখনোই রবিবার ডেলিভারি বলতো না। অর্ডারটা তুমি, ডাক্তারের একাউন্ট থেকে করেছিলে।"
"সব ডেলিভারি তো হাসপাতালের রিসেপ্সানিস্ট নিয়ে নেয়।"
"হ্যাঁ তাই হয়েছিল। রিসেপশনিস্টেরই সই আছে। কিন্তু তার কাছ থেকে সেটা কে নিয়েছিল, সেটাই হল প্রশ্ন ।"
"কে নিয়েছিল?"
"প্রতি রবিবারের মত ডাক্তার মণ্ডল হয়তো বারুইপুরে গেছিলেন, কিন্তু গার্গী তুমি সেদিন, মানে সেই রবিবারে, সকাল থেকে হাসপাতালে ছিলে । তোমার ঢোকা বেরোনোর রেকর্ড আছে আর ভিডিও ক্যামেরাতে ছবি আছে।"
"কিন্তু তার মানেই কি ও নিয়েছিল?" চন্দ্রা এতক্ষনে মুখ খুললো।
"কিন্তু দুয়ে দুয়ে বাইশ তো হয়েই থাকে, তাই না?" পারো মুচকি হাসলো। "কিন্তু এক দিক দিয়ে ভালোই হয়েছে। সেই রক্তাত রুবির জোরে আজ গার্গীর বায়ো-টেক ডিগ্রী হয়েছে আর কোলকাতায় এমন একটা নতুন কোম্পানি হয়েছে। আর দেশের তো খুব বড় উপকারও হল।"
কিছুক্ষণ সব চুপ চাপ। পারো নিজের হাতের গেলাসটা খালি করে গলায় ঢেলে দিল। "বটমস আপ ! চিয়ার্স।"
"বটমস আপ !।" গার্গী হাসলো । "রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম এর একটা লাইন মনে পড়ছে। আঙ্গুল চলে, কলম দিয়ে লেখা পড়ে যায়। শত অনুনয় বিনয় করে বা কান্নাকাটি করেও সেই হাতকে ফিরিয়ে আনা যায় না, যা লেখা হয়েছে তাকে মুছে ফেলতে বা পাল্টে দিতে।"
"হ্যাঁ । সেকন্ড ল অফ থার্মো-ডায়নামিক্স।"
....


Comments